উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় বন্ধ রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী স্থানান্তরসহ মরদেহ পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে হচ্ছে তাদের।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র একটি। তবে চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের গ্যারেজে পড়ে আছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যবহারের অভাবে গাড়িটির গায়ে ধুলাবালি জমেছে। চালক সংকটের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটির একমাত্র চালক গত ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে নতুন চালক নিয়োগ না হওয়ায় সেবাটি বন্ধ রয়েছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গত ১৫ অক্টোবর সকালে উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হানিফ হাওলাদারের স্ত্রী আলেয়া বেগমকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। একইভাবে পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় পরিবারের সদস্যদের।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ মানুষ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের। তাদের অনেকের পক্ষেই বাড়তি টাকা দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা সম্ভব নয়। জরুরি মুহূর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়ায় অনেক পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি হাসপাতালের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুস শাকিব বলেন, “আমাদের হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের চালক গত ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যাওয়ায় বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো চালক নিয়োগের বিষয়ে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা হয়নি। এছাড়াও হাসপাতালে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।”
এদিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দ্রুত চালু করতে চালক নিয়োগসহ শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের স্বজনরা।
