উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
সামান্য বৃষ্টিতেই বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সানুহার-ধামুরা-সাতলা সড়কের ঈদগাহ মার্কেট এলাকায় একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স খাদে আটকে পড়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ চেষ্টা করেও মাঝ রাস্তা থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি উঠানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বেহাল সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।
ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সড়কটির দুরবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দে পানি জমে কাদায় পরিণত হয়। ফলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, অনেক স্থানে পথচারীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে ঈদগাহ বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিকেল ৪টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ‘সড়ক সংস্কার করতে হবে’, ‘দুর্ভোগের অবসান চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয় মশিউর রহমান, ইয়াছিন ফরাজী, হিমেল, সামিয়া তালুকদারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শত শত এলাকাবাসী অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সানুহার-ধামুরা-সাতলা সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়। ফলে অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বর্ষা মৌসুমে অনেক স্থানে গর্ত ও কাদাপানির কারণে সড়কের প্রকৃত অবস্থাও বোঝা যায় না।
সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীসহ হাজারো মানুষ এ পথে যাতায়াত করেন। বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে।
ঈদগাহ বাজারের ব্যবসায়ীরাও সড়কের দুরবস্থার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বেড়েছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে অনেক যানবাহন চালক এ পথ এড়িয়ে চলেন, যার প্রভাব পড়ছে বাজারের স্বাভাবিক বেচাকেনায়।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকরভাবে সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের মতো কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তাঁরা আর শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব কাজ দেখতে চান। এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, “সড়কটি সংস্কারের জন্য এর আগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে আগ্রহী না হওয়ায় তখন সংস্কারকাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সড়কটি সংস্কারের জন্য পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।” উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, “আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।” তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর তাঁরা আর আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার পাশাপাশি পুরো কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি চান তাঁরা। অন্যথায় তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
