উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত বড় ভাইয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে মাটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় সাতলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরাফাত হোসেন হাওলাদারকে মারধর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে একই ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পটিবাড়ি এলাকায় জনতা বাজার স্বাধীন মৎস্য প্রকল্পসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, ক্যান্সারে আক্রান্ত বড় ভাই আউয়াল হাওলাদারের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে আরাফাত হোসেন তার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে মাটি বিক্রি করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় মৎস্য প্রকল্পের পক্ষ থেকে মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা কয়েকজন লোক নিয়ে সেখানে গিয়ে মাটি কাটতে নিষেধ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বড় ভাইয়ের চিকিৎসার বিষয়টি জানিয়ে কিছু সময়ের জন্য মাটি কাটার অনুমতি চাওয়া হলেও তিনি এতে রাজি হননি বলে অভিযোগকারীরা জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম মোল্লাসহ তার সঙ্গে থাকা লোকজন আরাফাত হোসেনের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরাফাত গুরুতর আহত হন।
পরে আহত আরাফাতকে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় পরিবারের কয়েকজন সদস্যও হামলার শিকার হন। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। পাশাপাশি অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় আরাফাত হাওলাদারের ছোট ভাই রবিউল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা (২৫), নয়ন পাইক (৩৫), মো. এনাম পাইক (২৭), মো. আলমগীর হোসেনসহ আরও ১০-১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা। তিনি বলেন, “আমি নেতৃত্ব দিয়ে কোনো হামলা করিনি। বিষয়টি মাছের ঘেরসংক্রান্ত।”
এদিকে, ঘটনার সময় হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও নিন্দা দেখা দিয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় মাছের ঘেরকে কেন্দ্র করে পরিবেশ, বসতবাড়ি এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাঘাট নিয়ে বিভিন্ন সময় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা এ ধরনের মাছের ঘেরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
