উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওছার হাওলাদার (৩২) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পশ্চিম সাতলা একতা বাজারের প্রধান সড়কে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যার নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিশিষ্ট সমাজসেবক আঃ হক হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন হাওলাদার, যুবদল নেতা ও হামলায় আহত রাশেদ আমিন হাওলাদার, নিহতের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার, সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ ও সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হাওলাদার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হাওলাদার, নিহতের স্ত্রী সাগরি বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্তবর্তী পশ্চিম সাতলা এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা থেকে হাইয়েস গাড়ি এবং ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে একদল লোক ওই এলাকায় আসে।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কাওছার ও রাশেদ পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাওছার হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাশেদ আমিন দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিক এবং পরে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে ২৪ অক্টোবর উজিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় দুজনকে অজ্ঞাতসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের টোল প্লাজা এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও অভিযান চলছে।
হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পশ্চিম সাতলা এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
