উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৯ ঢাকা থেকে হাইয়েস ও মাইক্রোবাসে এসে হামলার অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যার দাবি

দেশজুড়ে

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

নিহত কাওছার হাওলাদার উপজেলার আলমদী গ্রামের মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় কাওছার হাওলাদার ও আশিকুল হাওলাদারের সঙ্গে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাঁদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বিরোধ সৃষ্টি হয়।

অপর একটি সূত্রের দাবি, এর আগে আলমদী এলাকায় সজল হাওলাদারকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরে তাঁর ভাই সৌদি আরবপ্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিশোধমূলক ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন। ইকবাল গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার, আশিকুল হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের সঙ্গে ইকবাল হোসেন নান্না ও তাঁর ছেলে সাজিদ মোল্লার হাতাহাতি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে ওই ঘটনার পর সজল হাওলাদার ও শামীম হাওলাদার ঢাকায় অবস্থান থেকে একটি হাইয়েস গাড়িতে করে উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আরও লোকজন সাতলা এলাকায় আসে বলেও স্থানীয়দের দাবি।

পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে তাঁরা সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাওছার হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাশেদ আমিন হাওলাদার দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এবং পরে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর সাতলা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সজল হাওলাদার ও শামীম হাওলাদারসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাঁদের চাচা কাঞ্চন মোল্লাসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ফয়জুল আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা চলছে।

উজিরপুর মডেল থানার এএসআই অন্তর আহমেদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং আটকদের যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতলা এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *