সাভার প্রতিনিধি
ঢাকার সাভার উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচবনগ্রামে চাঁদার টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূর বাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা ভাগিনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী বায়লা বেগম (৪০) সাভার মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে অভিযুক্তরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, সুইচ গিয়ার, লোহার রড ও পাইপসহ সংঘবদ্ধভাবে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধরের পাশাপাশি পরনের কাপড় টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গৃহবধূর আর্তচিৎকার শুনে তাঁর ভাগিনা তাহসিন ছুটে এলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত সুইচ গিয়ার দিয়ে তাঁর বুকে আঘাত করার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার সময় আঘাতটি তাঁর বাম হাতে লাগে। এতে তাঁর হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। একই সময়ে তাঁর কাছে থাকা একটি TECNO CAMON 50 স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি হাসান ও মিলন আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত তাহসিনকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর হাতে আটটি সেলাই দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বায়লা বেগমের দাবি, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ কারণে তাঁরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অধীন ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইমরান ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া যাবে। বাদীপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
