বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরের ছবিতেউ থেমে গিয়েছিল সরকারিকরণ?উজিরপুরের বি.এন. খান কলেজ নিয়ে প্রশ্ন

দেশজুড়ে

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
সরকারিকরণের জন্য বিবেচনায় থাকার পরও জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বরিশালের উজিরপুর আলহাজ বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজ—এমন অভিযোগ করেছেন কলেজটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

কলেজ-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় পরিদর্শনের সময় কলেজের মাঠে অনুষ্ঠিত তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনসভার ছবি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর, প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে থাকা উদ্বোধনী ফলকের ছবি পরিদর্শকদের নজরে এসেছিল । এরপর রাজনৈতিক কারণে কলেজটি সরকারিকরণের তালিকা থেকে বাদ পড়ে বলে তাদের দাবি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে পরিদর্শন কমিটির কোনো প্রতিবেদন বা সরকারি সিদ্ধান্তের নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে উজিরপুর বিএন খান ডিগ্রি কলেজের জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছিলেন। সে সময় কলেজের অধ্যক্ষ দাবি করেছিলেন, ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

একই সময় একটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক প্রতিবেদনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগের কথা উঠে আসে। সেখানে উজিরপুর বিএন খান কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জাতীয়করণের দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যেও উজিরপুর উপজেলার শিকারপুরে ‘উজিরপুর আল-হাজ বি.এন. খান কলেজ’-এর অস্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা-প্রশাসনিক তথ্য রয়েছে।

কলেজটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকারিকরণ নির্ধারণ হওয়ার কথা শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ফলাফল, অবকাঠামো, প্রয়োজনীয়তা ও সরকারি নীতিমালার ভিত্তিতে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক নেতার জনসভা কিংবা কোনো ব্যক্তির নামে থাকা উদ্বোধনী ফলকের ছবি সরকারিকরণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে কি না—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তাদের দাবি, ২০১৪-পরবর্তী সরকারিকরণ প্রক্রিয়ায় কলেজটির অবস্থান, পরিদর্শন প্রতিবেদন, মূল্যায়ন এবং শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে সরকারিকরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সত্য কি না, তা সরকারি নথির ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কলেজ-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদন ও সরকারিকরণ-সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ করা হলে দীর্ঘদিনের এই প্রশ্নের নিরসন হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *