তুবার স্বপ্ন অনেক বড়, স্বপ্নপূরণে পাশে উপজেলা প্রশাসন

দেশজুড়ে

দীর্ঘদিন পর প্রিয় বিদ্যালয়ে ফিরল সেই তুবা

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিবেদক:
চুরির অভিযোগে বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হৃদয়স্পর্শী ভিডিওতে যে ছোট্ট মেয়েটি বাবাকে চা-রুটি খাইয়ে দিয়েছিল, সেই ৯ বছরের তুবা এবার ফিরেছে তার প্রিয় বিদ্যালয়ে। তার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলী সুজা তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে ফিরে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হয় তুবার। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তুবাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে শিশুটির স্বাভাবিক জীবন ও শিক্ষাজীবনে ফেরার ক্ষেত্রে মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে বামরাইল বাজারে চুরির অভিযোগে তুবার বাবা অনিক হাওলাদারকে স্থানীয় কয়েকজন আটক করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসে তুবা। বাবাকে মারধর না করার জন্য কান্নাকাটি করে অনুরোধ করার পাশাপাশি একপর্যায়ে চা ও রুটি এনে বাবাকে খাইয়ে দেয় সে। বাবার শরীরের ব্যথার জায়গায় হাত বুলিয়ে দিয়ে তার খোঁজ নেওয়ার দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনিককে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

একই সঙ্গে তুবার ভবিষ্যৎ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করার আশ্বাস দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ তাকে তার প্রিয় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হলো।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা বলেন, তুবার স্বপ্ন অনেক বড়। তার স্বপ্ন পূরণে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। তার পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

বাবার প্রতি ছোট্ট তুবার নিঃশর্ত ভালোবাসার দৃশ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেলেও ঘটনাটি একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা ও শিক্ষাজীবন নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তুবার বিদ্যালয়ে ফিরে আসা তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *