উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে নির্মিত একটি বাঁশ ও সুপারি গাছের সাঁকো উদ্বোধন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির ওই নেতাকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে তাঁদের নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী-পুরুষ, বিএনপির কয়েকজন সমর্থক ও নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় এক বাউলশিল্পী সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরচিত গান পরিবেশন করেন।
সাঁকো উদ্বোধনের সময় মো. শহিদুল ইসলাম খানকে কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে লাল ফিতা কাটতে দেখা যায়। পরে অনুষ্ঠানের ভিডিওটি তাঁর এক সমর্থকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওটির নিচে কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। একজন লিখেছেন, “এই উদ্বোধন শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকেও হার মানিয়েছে।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “পাকা রাস্তার ওপর বাঁশের সেতু দিয়ে ফ্লাইওভার তৈরি করেছেন।” অন্য একজন লিখেছেন, “অনেক দিন পর একটি বিনোদনের ব্যবস্থা হলো।” এ ছাড়া সাঁকো উদ্বোধনে কাপড় কাটার কাঁচি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও কেউ কেউ ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব মন্তব্য ব্যক্তিগত মতামত। এর কোনোটিই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়।
এ বিষয়ে মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, “স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত সাঁকোটি উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত। স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্যই এটি করা হয়েছে।”
বিষয়টি নিয়ে পৌর বিএনপির অন্য কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিনোদনের’ ঘটনায় পরিণত করার আগে একজন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নেতার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
স্থানীয় এক বাউলশিল্পীর সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক সংগীত পরিবেশনের বিষয়টিও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে। এতে উপস্থিত কয়েকজন নারী-পুরুষ সমর্থককে আনন্দ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাঁকোটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য যদি মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে সেটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এর উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন স্থানীয়ভাবে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
