নিজস্ব
প্রতিবেদক,
কুমারখালী:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশআড়া গ্রামে বিউটি খাতুন নামের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে প্রভাবশালী ও কুচক্রী মহলের মদদে অসামাজিক কার্যকলাপ, মিথ্যা মামলা-জিডি এবং ব্লাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
একের পর এক নিরীহ ও সম্মানিত মানুষকে হেনস্তা করার ঘটনায় স্থানী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়রা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নেপথ্যে প্রভাবশালী মহল ও সাজানো ফাঁদ
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাঁশআড়া গ্রামের সেলিমের স্ত্রী বিউটি খাতুন দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এলাকায় নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
এই সিন্ডিকেটের মূল কাজ হলো কৌশলে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অপবাদ দেওয়া এবং পরবর্তীতে সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা বা সালিশের নামে অর্থ আদায় করা।
তার এই ব্লাকমেইলের শিকার হয়ে অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।
ব্যর্থ জিডি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও বিউটি খাতুন স্থানীয় বেশ কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় হয়রানিমূলক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা না পাওয়ায় কুমারখালী থানা পুলিশ সেগুলো গ্রহণ করেনি।
অনুরূপভাবে, সম্প্রতি স্থানীয় বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক গানের লেখক নকছের আলী ভান্ডারী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করতে যান বিউটি খাতুন।
কিন্তু অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকায় থানা কর্তৃপক্ষ সেটিও নাকচ করে দেয়।
কতিপয় অসাধু সাংবাদিকের অপব্যবহার
থানায় অভিযোগ টিকাতে না পেরে বিউটি খাতুন ও তার চক্রটি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর তারা কতিপয় অসাধু ও নামধারী সংবাদকর্মীর শরণাপন্ন হন।
তথাকথিত সেই সাংবাদিকরা আর্থিক সুবিধা (মোটা অঙ্কের টাকা) নিয়ে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই নকছের আলী ভান্ডারীর বিরুদ্ধে মনগড়া, কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে, যা সম্পূর্ণরূপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
পরিবারের সতর্কবার্তা ও ‘মিথ্যা’ স্বীকারোক্তি
বিউটি খাতুন ও তার স্বামী সেলিমের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে খোদ সেলিমের ভাইয়েরা (বিউটির ভাসুররা) তাদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সতর্ক করেন।
পরিবার ও সমাজের সম্মান রক্ষার্থে তারা এই দম্পতিকে অসামাজিক ও ব্লাকমেইলের রাস্তা পরিহার করার নির্দেশ দেন।
পরিবারের এমন বাধার মুখে পড়ে বিউটি খাতুন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
নিজের অপরাধ ঢাকতে এবং পারিবারিক চাপ সামাল দিতে তিনি আবারও কতিপয় কথিত সাংবাদিক ডেকে তাদের ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও সাজানো ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি প্রদান করেন— যা মূলত তার পূর্বের অপকর্ম ঢাকা দেওয়ার একটি নতুন কৌশল বলে মনে করছেন গ্রামবাসী।
ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঁশআড়া গ্রামের একাধিক প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তি জানান, বিউটি খাতুনের এই সিন্ডিকেটের কারণে গ্রামের সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।
যেকোনো সময় সাধারণ মানুষ তাদের পাতা ফাঁদে পড়ে সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
এলাকাবাসী মনে করেন, বিউটি খাতুনের এই ধারাবাহিক অপকর্ম, ব্লাকমেইল এবং হলুদভ সাংবাদিকতার অপব্যবহার বন্ধ করতে কুমারখালী থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় এলাকায় বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
