উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে জমে ওঠার কথা থাকলেও হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি ও টানা বর্ষণে এবার কুরবানির পশুর বাজারে দেখা দিয়েছে ব্যাপক স্থবিরতা। ক্রেতা সংকট, কম দামে পশু বিক্রি এবং অস্থায়ী হাট ব্যবস্থাপনার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন গরুর খামারি, গৃহস্থ কৃষক ও পশু ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উজিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে স্থায়ী পশুর হাট স্থাপনের জোর দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুরবানির মৌসুম ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারে বিপুল সংখ্যক গরু মোটাতাজাকরণ করা হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রত্যাশিত ক্রেতা না আসায় হতাশায় দিন কাটছে খামারিদের। অন্যদিকে অস্থায়ী হাটগুলোতে অবকাঠামোগত সংকট ও আবহাওয়াজনিত কারণে বেচাকেনাও ব্যাহত হচ্ছে।
খামারি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর পশু পালন করে কুরবানির ঈদকে ঘিরে লাভের আশায় থাকলেও এবার বাজার পরিস্থিতি তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় ফেলেছে।
উজিরপুরের খামার মালিক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল তওয়াব সুমন বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ বছর কুরবানির হাটগুলোতে ক্রেতা খুব কম এসেছে। গত বছর ঈদের আগেই আমাদের অধিকাংশ পশু বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার এক হাট থেকে আরেক হাট ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।”
পশু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেন্টু বলেন, “ক্রেতা কম থাকায় গত বছরের তুলনায় পশুর দামও কম। তারপরও বিক্রি হচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
ক্রেতা মো. ফয়েজ আহমেদ টুটুল মোল্লা জানান, “এ বছর হাটে ক্রেতা তুলনামূলক কম হওয়ায় স্বাভাবিক দামে ভালো পশু কেনার সুযোগ পাওয়া গেছে।”
সোনার বাংলা বাজারের হাট ইজারাদার মোহাম্মদ আজিজ হাওলাদার বলেন, “এ বছর পশুর সরবরাহ অনেক বেশি থাকলেও ক্রেতা সংখ্যা খুবই কম। এতে খামারি ও গৃহস্থ পর্যায়ের কৃষকরা ভবিষ্যতে পশু পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই উজিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে স্থায়ী পশুর হাট গড়ে তোলা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে কুরবানির পশু সংকট তৈরি হতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি, উজিরপুরে পশুর খামার বাড়লেও এখনো পরিকল্পিত ও স্থায়ী পশুর হাট গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতি বছর কুরবানির মৌসুমে অস্থায়ী হাট নির্ভরতা, আবহাওয়ার ঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনার কারণে খামারি ও ব্যবসায়ীদের লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে। এ কারণে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্থায়ী পশুর হাট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, “উজিরপুরে অনেক পশুর খামার রয়েছে, কিন্তু স্থায়ী পশুর হাট নেই। ফলে অস্থায়ী হাটে বিভিন্ন কারণে বেচাকেনায় ওঠানামা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই উজিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে স্থায়ী পশুর হাট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থায়ী পশুর হাট প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন খামারি ও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও সুশৃঙ্খল পরিবেশে নিরাপদে পশু কেনাবেচার সুযোগ পাবেন।
