কমলগঞ্জে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু: গাছে ঝুলন্ত লাশ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

দেশজুড়ে

এম এ কাদির চৌধুরী ফারহান, কমলগঞ্জ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রামপাশা গ্রামে মো. আবাছ মিয়ার বড় ছেলে মো. আক্কাছ মিয়া (২২) রহস্যজনকভাবে নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে বাড়ির পাশের ধলাই নদীর পাড়ের একটি গাছের সঙ্গে চাদর দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে আক্কাছের ছোট ভাই হাসান তাকে খুঁজতে বের হয়ে প্রথমে নদীর পাড়ে তার বাইসাইকেল দেখতে পান। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আক্কাছের মৃতদেহ দেখতে পান। এ সময় তার দুই পা মাটিতে লাগানো ছিল—যা স্থানীয়দের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ তৈরি করেছে।

নিহত আক্কাছ পেশায় রংমিস্ত্রি ছিলেন। রোববার রাত ৯টার দিকে ভানুগাছ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার আগে তিনি বাবার কাছ থেকে ৫০ টাকা নেন। রাত ১০টার দিকে বড় চাচা মো. নওশাদ মিয়া তাকে সফাত আলী সিনিয়র মাদ্রাসার কাছে দেখতে পান। কিন্তু রাতে বাড়ি না ফিরলে পরিবারের লোকজন মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেন; তখন ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শওকত বক্স সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

নিহতের মা ফাতই বেগম অভিযোগ করে বলেন, আক্কাছের সঙ্গে আদমপুর এলাকার একটি মেয়ের সম্পর্ক ছিল। তার মোবাইল ফোনে ওই মেয়ের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আক্কাছের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এটি পরিকল্পিত হত্যা—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, “৯৯৯–এ কল পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত লাশের সুরতহাল লিপিবদ্ধ করি এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *