নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নে গভীর রাতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে এক যুবককে আটকের পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রফাদফা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি চক্র কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই নগদ দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ওই যুবককে মুক্ত করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার গভীর রাতে জল্লা ইউনিয়নের কাজীশাহ গ্রামের মোঃ ছাদেক হাওলাদারের ছেলে এনামুল হাওলাদার (২৬) একই গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় একদল যুবক ওই ঘর ঘেরাও করে এবং তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠে। কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, রাতেই সালিশ-মীমাংসার নামে নগদ দুই লাখ টাকার বিনিময়ে আটক এনামুলকে একটি নৌকায় করে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, ঘটনার রাতেই সালিশকারীরা এনামুলকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় তার বাবা ছেলের অনৈতিক কাজের জন্য উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চান এবং ছেলেকে সতর্ক করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং টাকার বিনিময়ে আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।এই ঘটনায় নৌকার মাঝি জাহাঙ্গীর ফরাজী জানা একই বাড়ির নাজনীনের অনুরোধে তিনি তাকে নৌকায় করে পার করতে সহায়তা করেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য:
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে টাকা লেনদেন এবং আটকের ঘটনাটি অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি মহল আমাকে ফাঁসানোর জন্য এই নাটক সাজিয়েছে।”
এই বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি
