মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই — এমপি সান্টু

দেশজুড়ে

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বরিশালের উজিরপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সর্দার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই। তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যার প্রতিবাদে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পর বাঙালি জাতি নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, উজিরপুরের গর্ব ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা (মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত) মেজর এম এ জলিলের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের কোনো বিভাজন নেই, তারা জাতির গৌরব।”
দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিলের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সকাল ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজার সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ দুলাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল, উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজের তালুকদার মান্নান মাস্টারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন উজিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মাহফুজুর রহমান মাসুম।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দুপুরে ব্যতিক্রমধর্মী ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিকারপুর সরকারি শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ থেকে শুরু হয়ে উজিরপুর সরকারি ডব্লিউ বি ইউনিয়ন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হওয়া প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রতিযোগিতায় শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন। পরে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে রাতে প্যারেড গ্রাউন্ডে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *