বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ; চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া নিয়ে এলাকায় আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা ঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নে বিএনপির নাম ব্যবহার করে ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে বিশেষ করে সংখ্যালঘু পরিবার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হারতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তারে তৎপর হয়ে ওঠেন তরিকুল ইসলাম তালুকদার ও তার অনুসারীরা। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে ইট-বালুর ব্যবসা, ডিস-ইন্টারনেট ব্যবসা, ভূমি-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন খাত নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাস জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রির মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নকাজ, বিশেষ করে রাস্তা সংস্কারকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তরিকুল ইসলাম তালুকদার ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা নেতাকর্মীদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, তরিকুল ইসলাম তালুকদার ও তার অনুসারীরা দলীয় এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল এবং সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবিসহ নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে হারতা ইউনিয়নের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার ও ব্যবসায়ী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে নির্দিষ্ট ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, মামলা বা প্রশাসনিক তদন্তের তথ্য ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যদিকে, হারতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করে তরিকুল ইসলাম তালুকদারের নামে পোস্টার-ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে একজন রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে এলাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিষ্পত্তি ছাড়াই তিনি কীভাবে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
এ বিষয়ে মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠো ফোনে ফোন দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
