স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে এক আলোচিত নাম—শাহ আলম। প্রশ্ন উঠেছে, কে এই শাহ আলম? কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে তিনি এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন?
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, শাহ আলম কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও ভূমি অফিসের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। বিশেষ করে নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, পর্চা সংগ্রহসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো পেতে হলে তার মাধ্যমে যেতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত শাহ আলম অফিসের একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তার মাধ্যম ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ফাইল অগ্রসর হয় না বলেও জানিয়েছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
শুধু শাহ আলমই নন, একই চক্রের অংশ হিসেবে রেকর্ড রুম ও পর্চা সংক্রান্ত কার্যক্রমে জড়িত রয়েছেন মহর আলী নামের আরেক দালাল। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একটি সরকারি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বহিরাগতদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া প্রশাসনিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আইন অনুযায়ী, সরকারি সেবা গ্রহণে কোনো ধরনের দালাল বা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধ প্রভাব খাটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় না আনলে এ ধরনের দালাল নির্ভর সেবা ব্যবস্থা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
এলাকাবাসীর দাবি, “কে এই শাহ আলম”—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে তার প্রভাবের উৎস উন্মোচন করা হোক এবং আমিন বাজার সাদুল্যাপুর ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা হোক।
