উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উজিরপুর পৌরসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, “আমাদের আশপাশে সামনে–পেছনে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু কিংবা বালুখেকো নেই।” তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক সরকার গঠন করবে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে উজিরপুর মহিলা কলেজ মাঠে আয়োজিত এ উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উজিরপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ আল-আমিন সরদার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল অঞ্চলের নির্বাচন পরিচালক ফখরুদ্দিন খান রাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদ্য জামায়াতে ইসলামে যোগদানকারী মোহাম্মদ গোলাম মাহমুদ মাহাবুব মাস্টার। আরও বক্তব্য দেন বরিশাল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ সাঈদ আহমেদ খান, অ্যাডভোকেট আজম খান, হাফেজ মাওলানা মোঃ কাওছার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল খালেক মাস্টার এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ খোকন সরদার।
মোঃ খোকন সরদার–এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন খায়ের, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি, সম্পাদক ও নেতৃবৃন্দ। এ সময় পৌরসভার বিএনপির কয়েকজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামে যোগদান করেন।
বক্তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে কাউকে বেকার ভাতা দিয়ে নির্ভরশীল করা হবে না; বরং সবাইকে আত্মনির্ভরশীল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দেশে খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মতো অপরাধ নির্মূল করা হবে এবং কাউকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে বাধ্য করা হবে না।
তারা আরও বলেন, “আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমরা মাথা উঁচু করে এই দেশে বসবাস করতে চাই। কোনো বিদেশি শক্তির অন্যায্য দাবির কাছে মাথা নত করে ক্ষমতায় যেতে চাই না।” জনগণের ভোটে ১১-দলীয় জোট আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ভুয়া দাবি করে বলেন, দেশের প্রায় ৬৮ হাজার গ্রামে এই কার্ড কার্যকরের মতো কোনো বাস্তব ব্যবস্থা নেই। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামকে ক্ষমতায় আনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
১২ ডিসেম্বর ‘হ্যাঁ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামকে বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হয় বৈঠক থেকে।
