শেখ সোহেল আহমেদ
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
আজ (১৯ জানুয়ারী, রোজ সোমবার) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী। এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ও দেশপ্রেমিক নেতাকে।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য স্থান করে নেন, যা বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে নতুন উদ্দীপনা জোগায়।
স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং গ্রামভিত্তিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” ধারণার মাধ্যমে তিনি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
শহীদ জিয়াউর রহমান কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেন। তাঁর উদ্যোগে খাল খনন, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা এবং শ্রমনির্ভর উন্নয়ন কর্মসূচি চালু হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। তবে তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব আজও কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস।
জন্মবার্ষিকীর এই দিনে জাতি মরহুম রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং তাঁর দেশের প্রতি অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।
