উজিরপুরে হাঁস চুরির অভিযোগ ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতির ছেলের বিরুদ্ধে-বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিএনপির নেতার হুমকি।

দেশজুড়ে রাজনীতি

উজিরপুর বরিশাল প্রতিনিধিঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হস্তিশুন্ড গ্রামে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
একই গ্রামের বৃদ্ধ নুরুল ইসলামের স্ত্রী রেনু বেগমের খামার থেকে দিনের আলোয় চুরি হয়েছে সাতটি হাঁস।

চুরির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে প্রমাণিত হলে ধামাচাপা দিতে ওই বিএনপির নেতা ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদেরকে দিয়ে অসহায় পরিবারটিকে মুখ না খুলতে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ঘটনায় জড়িত স্থানীয় বিএনপি ওয়ার্ড সভাপতির ছেলে আব্দুল্লাহ (১৮)।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধা নুরুর স্ত্রী রেনু বেগম জানান, তাঁর মোট আটটি হাঁস ছিল। বুধবার দুপুরে ঘরে না থাকার সুযোগে সাতটি হাঁস চুরি হয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, একই এলাকার বারেক মোল্লার ছেলে আব্দুল্লাহ ওই হাঁসগুলো চুরি করে স্থানীয় গিয়াস বেপারী নামক এক ব্যক্তির স্ত্রী ইয়াসমিনের কাছে মাত্র তিন হাজার পাচ শত টাকায় বিক্রি করে।

চোরাই হাঁস ক্রেতা গিয়াসউদ্দিন ও তার স্ত্রী জানান, হস্তিসুন্ড গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বারেক মোল্লার পুত্র আব্দুল্লাহ ৭ অক্টোবর বিকেলে সাতটি হাঁস নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আসেন এবং তিন হাজার পাচ শত টাকায় ৭টি হাঁস ক্রয় করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে ব্যক্তি একটি দরিদ্র নারীর হাঁস চুরি করতে পারে, সে সমাজে আরও বড় অপরাধ করতেও পিছপা হবে না।”
অভিযুক্ত আব্দুল্লার বাবা ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি বারেক মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের কলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
এদিকে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা নারী বিচারের দাবিতে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কর্মীদের কাছে ধন্না ধরছেন।
তিনি কান্না করে বলেন,“আমি গরিব মানুষ, হাঁসের ডিম বিক্রি করেই সংসার চালাই। আমার হাঁসগুলো ফেরত চাই, আর যারা এই অন্যায় করেছে তাদের বিচার চাই।”
স্থানীয়রা আরো জানান, আব্দুল্লাহ ইতিপূর্বে মিজান নামের এক ব্যবসায়ীর বসতঘর থেকে নলকূপের হেড চুরি করে নিয়ে যায় এবং ধরা পড়লে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে জরিমানা দিয়ে রক্ষা পান।

এ বিষয়ে বিএনপির নেতা বারেক মোল্লার ব্যবসায়িক পার্টনার বজলু জানান, আমি বিষয়টি শুনে বারেকের পুত্র আব্দুল্লাহকে নিয়ে গিয়াস ব্যাপারীর বাড়িতে গেলে হাঁস বিক্রির বিষয়ে সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন যুগলু এর কাছে জানতে চাইলে,তিনি বলেন আমি ঘটনা শুনেছি এ বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার করা হবে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, আব্দুস সালাম জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *