সিনিয়র বিনোদন সাংবাদিক,সুদীপ দেবনাথ রিমন
প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেড়ে উঠে বলে সমতলের বাসিন্দাদের চেয়ে পাহাড়ের মানুষদের জীবন সংগ্রামের প্রতি পদে পদেই বাধা। জীবন ও জীবিকার তাগিদে পরিশ্রমকে সঙ্গী করেই বেড়ে উঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষেরা।পরিশ্রমের সঙ্গে তাদের জীবনের বাঁকে বাঁকে রয়েছে নানা ধরনের বৈচিত্র্য। খাবার, পোষাক ও সংস্কৃতি সবকিছু মিলিয়ে সমতলের মানুষদের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন পাহাড়িরা। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের জীবন সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও যাপিত জীবনের খন্ডচিত্র ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে এনেছেন আলোকচিত্রীরা। আর সেসব আলোকচিত্র নিয়ে ভিন্নধর্মী প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ( এমজেএফ)
“পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষদের টেকসই ও সহনশীল জীবিকা উন্নয়নে অংশীদারিত্ব” প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন, জীবিকা, অধিকার ও পরিবর্তনের গল্পগুলো এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে নয়টি স্থানীয় সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ।
গতকাল মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৫ নাম্বার গ্যালারিতে শুরু হয় “রাইজিং হিলস, বিয়ন্ড দ্য ফ্রেম : এ ফটো ভয়েস” শীর্ষক এই প্রদর্শনী।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায়
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার বলেন, এসব ছবি প্রকল্পের কাগজপত্রের বাইরে মানুষের বাস্তব পরিবর্তনের গল্প দেখায়। এখানে মানুষ নতুন সুযোগ পাচ্ছে, নারী ও পুরুষ টেকসই আয়ের পথ তৈরি করছে, পরিবারগুলো তাদের জীবনমান উন্নত করছে এবং কমিউনিটিগুলো নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ নিজেদের জীবন উন্নত করতে পারে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে নিতে পারে।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, পিআরএলসি প্রকল্পটি শুধু দারিদ্র্য কমানোর কাজ নয়; এটি ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
তিনি আরো বলেন, এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন নারীরা, যারা আয়মূলক কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেস বলেন, গল্প মানুষকে মানুষের সঙ্গে যুক্ত করে। এই ছবিগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, আকাঙ্ক্ষা ও আশার কথা শক্তভাবে তুলে ধরেছে।
নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের পক্ষ থেকে ক্যাথারিনা কুনিগ বলেন, ছবি হচ্ছে গল্প বলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠ, অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরতে এ ধরনের আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ উদ্যোগের জন্য এমজেএফ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং, বলেন, জীবিকা, সমন্বিত উন্নয়ন এবং তরুণ নারীদের নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ থেকে শেখার সুযোগ আছে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবিকার উন্নয়নের মাধ্যমে ২০ হাজার পরিবারকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার লক্ষ্য নিয়ে এ প্রকল্প কাজ করছে। এমজেএফ’এর অধিকারভিত্তিক কাজ শুধু অর্থনৈতিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়; অধিকার সুরক্ষা এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও এর অংশ।
শাহীন আনাম পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অমীমাংসিত ধারাগুলো বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর গভর্নিং বোর্ড সদস্য নিরূপা দেওয়ান।
এ আয়োজনে দুটি কেস স্টোরি প্রকাশনা এবং একটি ফটো ক্যাটালগ উন্মোচন করা হয়।
আজ বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।
