উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্য ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় জেলা পুলিশ প্রশাসনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকমুক্ত পুলিশ বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যেই এ ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রতিটি থানার সদস্যদের ধাপে ধাপে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল উজিরপুর মডেল থানার সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দুইজন কনস্টেবলের শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
তবে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ফল নিশ্চিত করতে তাদের পুনরায় পরীক্ষার জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।
ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফল পাওয়ার পর ওই দুই সদস্যকে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার জানান, “দুই পুলিশ সদস্যের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জেলার ১০টি থানার সব সদস্যকে পর্যায়ক্রমে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে মাদকসংশ্লিষ্টতা নির্মূল করতে এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। তবে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুদ্ধি অভিযান কেবল তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নয়—এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বাহিনীর পেশাগত মান ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
